খবর

বাবুগঞ্জ বাজারে চান্দিনা ভিটি/খাসজমি অবৈধভাবে কেনাবেচা ও বেদখল : প্রশাসনের নজরদারী প্রশ্নবিদ্ধ!

মির্জা মোঃ মনজুরুল হক : ফুলবাড়ীয়া উপজেলার রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের বাবুগঞ্জ বাজার ঐতিহ্যবাহী পুরাতন বাজার। আশে পাশের ০৬ টি গ্রামের জন্য এই বাজারটি বেশ গুরুত্বপূর্ণ এবং ০৮নং রাঙ্গামাটিয়া ইউনিয়নের অন্যতম বড় বাজার। বাজারটির অধিকাংশ ভূমিই খাস। এই বাজারের কিছু উন্নয়ন চোখে পড়ার মতো। বিশেষ করে নির্মাণাধীন গ্রোথ সেন্টার সবার মনোযোগ আকর্ষণ করছে।
বানার নদী বিধৌত এই বাজারে দিন দিন অনিয়ম ঝেঁকে বসেছে। কোন নিয়ম-নীতির তোয়াক্কা না করেই চান্দিনা ভিটি/খাস জমি হর হামেশা বিক্রি হচ্ছে। জোরপূর্বক দখল বেদখল হচ্ছে দোকান পাট। স্ট্যাম্প দলিলের মাধ্যমে বিক্রি হচ্ছে খাস জমি।
হাট বাজার বন্দোবস্ত নীতিমালা অনুযায়ী কোন বাজারের পেরিফেরী জমি ব্যতিত বাকীটুকু চান্দিনা ভিটি হিসেবে প্রকৃত দোকানদারগণ জেলা প্রশাসকের কার্যালয় হতে একসনা লিজ নেওয়ার বিধান থাকলে ও বাবুগঞ্জ বাজারে যেন অনিয়মই নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে। সম্প্রতি বাজারের কথিত সাইদুল আকন্দ নামে একব্যক্তি খাসজমি কিনে অন্য একটি সমিতি/ সংগঠনের দখলকৃত ঘরে জোরপূর্বক প্রবেশ করে ঘরে তালা দিয়ে ঘরের ওয়াল নির্মাণ করছে।
সরকারি হাট বাজার নীতিমালা অনুযায়ী কোন ব্যক্তি একসনা ইজারা না নিয়ে বাজারের ঘর ব্যবহার এবং অবকাঠামোগত কোন পরিবর্তনের সুযোগ না থাকলে ও প্রভাব খাটিয়ে আরও কিছু বাজার ব্যবসায়ীর সহযোগিতা নিয়ে দিনে দুপুরে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে সাইদুল নামের এই ব্যক্তি।
ইতিমধ্যে এই ঘর নিয়ে স্থানীয় ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যান কয়েকদফা বৈঠক করেছেন। কোন সমাধানে পৌঁছানোর পূর্বেই সাইদুল আকন্দ জোর পূর্বক ঘরে ঢুকে তালা দিয়েছে।
সরজমিনে এই বিষয়ে কথা বলতে গিয়ে বাজারের সাবেক ইজারাদার সাইদ বলেন, সাইদুল জোর পূর্বক ঘরে ঢুকার জন্য বেশ কয়েকবার চেষ্টা চালিয়েছে আমরা প্রত্যক্ষদর্শীরা বারবার বারণ করা সত্ত্বেও ও বিষয়টি আমলে নেয়নি।
জোরপূর্বক প্রবেশকারী সাইদুল এর ভাষ্য হচ্ছে, এটা আমার কিনা জমি। আমার ঘরে আমি ঢুকব কে কি করতে পারে দেখবো নি।সংগঠনটির দাবী, আমরা গত ০৫ বছর আরো অধিক সময় ধরে মানবিক কাজ করে যাচ্ছি। ফুলবাড়িয়া আসনের সংসদ সদস্য সংগঠনের বিষয়ে অবগত আছেন, তিনি জমিটুকু স্থায়ীভাবে পাওয়ার জন্য চেষ্টা করবেন বলে সম্মতি দিয়েছেন ।
তারা আরও বলেন, এই ঘরে তাদের স্মার্ট টিভি, টেবিল এবং অনেক চেয়ারসহ প্রায় ০১ লক্ষ টাকার জিনিসপত্র রয়েছে যা কিনা চুরি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
সাপ্তাহিক বন্ধের দিনে তারা প্রশাসনের অনুমতি ব্যতিরেকে পাকা ওয়াল নির্মাণের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে।
বিষয়টি নিয়ে বাজারে বেশ কয়েকবার বসে ও সমাধান না হওয়াতে অস্থিতিশীল অবস্থা বিরাজ করছে।
স্থানীয় চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম চৌধুরী মুক্তা’র ভাষ্যমতে, বর্ণিত জমিটি খাসজমির অন্তর্ভুক্ত। এটা নিয়ে কথা বলার সুযোগ কম। তারপরও বসে সমাধানের চেষ্টা করেছি। বিষয়টি একান্তই ইউএনও ও এসিল্যান্ড স্যারের।
বিষয়টি নিয়ে ০৫ নং ওয়ার্ডের স্থানীয় মেম্বার এর ভূমিকা প্রশ্নবিদ্ধ। সাধারণ জনগণের দাবী -আজকাল সবাই মাতব্বর, মুরুব্বিদের কথা শুনে না। নতুন কিছু পোলাপান বাজারের মাতব্বর হইছে। ওরা বাজারের পরিবেশ নষ্ট করছে। রাজস্ব আদায়ের স্বার্থে বাজারটি নিয়মমাফিক পরিচালিত হোক। প্রশাসনের নজরদারী বাড়ুক। ইউএনও এবং ডিসি স্যারকে অনুরোধ অতিদ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য ।
প্রশাসনের নজরদারির অভাবে ঐতিহ্যবাহী বাবুগঞ্জ বাজারে অনিয়ম দিন দিন বাড়ছে। বর্তমান ইজারাদারসহ মুষ্টিমেয় কয়েকজন এই বাজারে বিভিন্ন ধরনের অনিয়ম চালাচ্ছে। ইদুল আজহার সময় স্কুলের মাঠে গরুর হাট বসিয়ে চাঁদা আদায়, স্কুল মাঠ নষ্ট করা, প্রতিটি দোকানদারদের কাছ থেকে মাসিক চাঁদা আদায় নিয়ম হয়ে দাঁড়িয়েছে।
সহকারী কমিশনার (ভূমি) সেলিনা আক্তার এর নিকট বাবুগঞ্জ বাজারে চান্দিনা ভিটি/খাসজমি অবৈধভাবে কেনাবেচা করে স্থাপনা নির্মাণ প্রসঙ্গে জানতে চাইলে তিনি বলেন, এ বিষয়ে এখন আমার কোনো বক্তব্য নেই। বিষয়টি দেখতেছি।

সম্পর্কিত সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button