বাংলাদেশ

যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান নুরুল ইসলামের ৩য় মৃত্যুবার্ষিকী আজ

আজকের ফুলবাড়ীয়া ডেস্ক : স্বপ্ন অনেকেই দেখেন। কিন্তু, ক’জনই পারেন স্বপ্নকে বাস্তব রূপ দিতে? স্বপ্নের আকাশই বা কতো বিশাল হতে পারে? সব কল্পনাকে ছাড়িয়ে যাওয়া এক মহিরূপ, স্বপ্নবাজ বীর মুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলাম। যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যানের হাত ধরে কর্মসংস্থান হয়েছে লক্ষাধিক মানুষের। যিনি বলতেন, বড় আশা আর লক্ষ্য নিয়ে, সৎ থেকে মানুষের জন্য কাজ করাই জীবন। ভীষণ দূরদর্শী, কর্মময় সফল মানুষটিকে হারানোর ৩ বছর আজ।

বিষন্ন, বৃষ্টিস্নাত এক দিনে যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান বীরমুক্তিযোদ্ধা নুরুল ইসলামের প্রতি রাষ্ট্রের গার্ড অব অনার। যমুনা ফিউচার পার্কের আঙ্গিনা থেকে শোকের বিস্তৃতি ঘটেছিল পুরো আকাশজুড়ে। মহামারী করোনায় আক্রান্ত হয়ে ২০২০ সালের ১৩ জুলাই তিনি স্ত্রী, এক ছেলে আর ৩ মেয়েকে রেখে ৭৪ বছর বয়সে পাড়ি জমান অসীমের পথে।

১৯৪৬ সালের ৩ মে পদ্মা পাড়ের নবাবগঞ্জে জন্ম সফল এ শিল্পপতির। চিন্তা ও দর্শনে ছিল ব্যবসা বাণিজ্যের মধ্য দিয়ে দেশের সামগ্রিক উন্নয়ন। স্বাধীনতাযুদ্ধে অদম্য সাহসে জীবনবাজি রেখে লড়াইয়ের পর, দেশে শিল্পবিপ্লবের লক্ষ্যে ১৯৭৪ সালে গড়ে তোলেন যমুনা গ্রুপ। ধীরে ধীরে যে গ্রুপের কেবলই বিস্তৃতি ঘটে। একে একে গড়ে তোলেন শিল্প ও সেবাখাতের প্রায় অর্ধশত প্রতিষ্ঠান।

কর্মসংস্থানমুখী শিল্পায়ন গড়ে তুলেছিলেন তিনি। বিশ্বাস করতেন, রাষ্ট্রের প্রত্যেক নাগরিককেই দেশ বিনির্মাণে ভূমিকা রাখতে হবে। সৎভাবে, কাউকে না ঠকিয়ে, ব্যবসা বাণিজ্যের প্রসারে আস্থাশীল ছিলেন তিনি।

যমুনা ইলেক্ট্রনিক্স, ফিউচার পার্ক, পেগাসাস মটরসাইকেল, ফ্যাশন ব্র্যান্ড হুর, মেট্রো, ভোগ, হোলসেল ক্লাব- এখন দেশীয় ব্র্যান্ড হিসেবে জায়গা নিয়েছে সাধারণের মনে। সকল ব্যবসায়, নুরুল ইসলাম নিজেকে চৌকশ হিসেবেই প্রমাণ করেছিলেন। সেইসঙ্গে মেধা, দক্ষতা, আধুনিক চিন্তা ও পরিকল্পনার বাস্তবায়নও ঘটিয়েছিলেন তিনি।

পাঠকপ্রিয় দৈনিক যুগান্তর কিংবা দর্শকের আস্থার যমুনা টেলিভিশন। গণমাধ্যম প্রতিষ্ঠার নেপথ্যে ছিল, নিপীড়িত মানুষের পাশে থাকার টান। দেশপ্রেমিক এ মুক্তিযোদ্ধা ও শিল্পপতি নুরুল ইসলাম আকুল হয়েই চাইতেন, সত্যের সঙ্গে থাকার, জনগণের পাশে থাকার।

তিনি ছিলেন ভীষণরকমের রাজনীতি ও অর্থনীতি সচেতন মানুষ। একজন শিল্পপতির, পারিবারিক টান অবাক করতো পরিচিতজনদের। দেশের অভ্যন্তরেই বিপুল বিনিয়োগ আর ঋণ নিয়ে সময়মতো তা পরিশোধ করে দেশীয় ব্যবসাখাতের জন্য অনন্য এক উদাহরণ তিনি।

যমুনা গ্রুপের প্রতিষ্ঠাতা নুরুল ইসলাম রইবেন সৃষ্টি আর কর্মমময় জীবনের দৃষ্টান্ত হয়ে। দেশের জন্য, এ জনপদের মানুষের জন্য কাজ করার অপার বাসনা সঞ্চারিত হবে আরও বহুজনে।

/যমুনা নিউজ

সম্পর্কিত সংবাদ

মন্তব্য করুন

আপনার ই-মেইল এ্যাড্রেস প্রকাশিত হবে না। * চিহ্নিত বিষয়গুলো আবশ্যক।

Back to top button